নারায়ণগঞ্জ সেজান জুস ফ্যাক্টরীতে আগুন লাশ উদ্ধার ৫০ নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে -71news24

একাত্তর নিউজ ডেস্ক :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের পর ৫০জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিভলে শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া একটার পর কারখানার অভ্যন্তর থেকে লাশগুলো বের করতে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা।

 

শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানয়ে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া লাশ ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হবে।

 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান জানান, ফায়ার সার্ভিস থেকে তিনি জানতে পেরেছেন অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

 

 

 

এদিকে কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনের নাম-পরিচয় পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া আগুনে আহত হয়েছেন আরও প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির এডমিন ইনচার্জ সালাউদ্দিন মিয়া জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় সেকশনের পাঁচটি ফ্লোরে প্রায় চারশ’ শ্রমিক ওভারটাইম করছিলেন।

 

এর আগে, আগুনে তিন জনের নিহতের তথ্য জানানো হয়। এরা হলেন- স্বপ্না রানী (৪৪) ও মিনা আক্তার (৪৩) মোরসালিন (২৪)। নিহত স্বপ্না হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডুবা এলাকার যতীন সরকারের স্ত্রী ও নিহত মীনা কিশোরগঞ্জের কমিরগঞ্জ উপজেলার উত্তরকান্দা কুকিমাদল গ্রামের হারুনের স্ত্রী। তারা উভয়ই কারখানার ওডি সেকশনের শ্রমিক বলে নিশ্চিত বরেন সেখানকার অপারেটর আজিজ মিয়া।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার দুপুরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ শ্রমিকদের জন্য স্বজনরা ফ্যাক্টরির সামনে অপেক্ষা করছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় লাগায় স্থানীয়রা কারখানায় হামলাও চালায়। এসময় সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। আনসার সদস্যদের তিনটি শটগানও খোয়া যায়। পরে দুটি শটগান উদ্ধার হয়।

 

 

 

এদিকে আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক, পুলিশের একজন প্রতিনিধি এবং কলকারখানা অধিদফতরের একজন প্রতিনিধি।

Please follow and like us: