দুইম্যাচ হাতে রেখেই টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়-71news24

একাত্তর নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক :

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

প্রথম দুই ম্যাচে তেমন উদযাপন হয়নি। অধিনায়ক মাহামুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, সিরিজ জয়ের আগ পর্যন্ত পা মাটিতেই রাখতে চাচ্ছেন। অবশেষে সেই ক্ষণ এলো। টাইগার ক্রিকেটাররা উদযাপনটাও করলো। করবেই বা না কেন? ঐতিহাসিক এক কাণ্ড করে বসেছে তারা! নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই প্রথম! সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়ে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই প্রথমবারের মতো যেকোন ফরম্যাটে অজিদের হারালো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর অস্ট্রেলিয়া- টানা দুই সিরিজের শিরোপা নিজেদের কেবিনেটে রেখে দিল মাহামুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

 

 

ঐতিহাসিক সিরিজ জয়টা এসেছে রোমাঞ্চ আর টান উত্তেজনার মাঝে। লো স্কোরিং ম্যাচে শেষ সময়টা থেকে খুব বেশি দূরে ছিলো না কখনোই। শেষ ২ ওভারে যখন প্রয়োজন ২৩, চোঁখধাধানো সব কাটারে মুস্তাফিজুর রহমান রান দিলেন মাত্র ১! বারবার ব্যাট চালিয়েও ব্যাটে-বলেই করতে পারলেন না ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান। আগের দুই ম্যাচের অসাধারণ এক স্পেল উপহার দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শেষ ২ ওভারে রান দেন মাত্র ৫। কোনো উইকেট পাননি মুস্তাফিজ, কিন্তু ৪ ওভারে রান দিয়েছেন কেবল ৯!

 

শেষ ওভারে দরকার ২২ রান, মেহেদি হাসানের প্রথম বলেই শর্ট পেয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন অ্যালেক্স কেয়ারি। পরের বলে আসে ১ রান। তৃতীয় বলে রান নেই। পরের বলটি নো বল করে বসে মাহেদি। আবার জমে ওঠে নাটকীয়তা। তবে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ জয় করে ম্যাচ শেষ করেন মাহেদি। অস্ট্রেলিয়া নিতে পারে কেবল ১১। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়টা নিশ্চিত হয় ১০ রানের জয়ে।

 

এর আগে বাংলাদেশের শুরুটাও ভালো হয়নি। ম্যাচে দলীয় তিন রানেই পরপর সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার। আর শুরুতেই আঘাতে রানের গতি যায় কমে। ৫ ওভারে রান উঠে ২০। এমন বিপর্যয়ে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন সাকিব আল হাসান এবং অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। মন্থর গতিতে হলেও সচল রাখেন রানের চাকা।

 

কিছুক্ষণ রয়ে সয়ে খেলার পর মারমুখী হন সাকিব। বাড়াতে থাকেন রানের গতি। তাকে বেশি দূর এগুতে দেননি অজি স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা। তার বলে অ্যাস্টন এইগারের তালুবন্দি হয়ে ১৭ বলে ২৬ করে ফেরেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।

 

 

 

আগের ম্যাচে জয়ের নায়ক আফিফ হোসেন এই ম্যাচে বেশিদূর এগুতে পারেননি। ১৩ বলে ১৯ করে অ্যালেক্স ক্যারির ডিরেক্ট হিটে রান আউট হন তিনি। তাতে ৭৬ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তিন রান করে হেইজলউডের স্লো বাউন্সারে বড় শট খেলতে গিয়ে বেন ম্যাকডরমটের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শামীম হোসেন। সেই রেশ না কাটতেই মাহমুদুল্লাহর ভুলে রান আউন হন নুরুল হাসান সোহান।

 

উইকেট কামড়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে পঞ্চম অর্ধশতক। ৫৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ৫২ রান করা মাহমুদুল্লাহ শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার অভিষিক্ত নেইথান এলিসের। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে বোল্ড হন তিনি। ততক্ষণে লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

 

স্কোরবোর্ড

 

অস্ট্রেলিয়া ১১৭/৪ (২০ ওভার)

 

মিচেল মার্শ ৫১; শরিফুল ২/২৯

 

বাংলাদেশ ১২৭/৯ (২০ ওভার)

 

মাহামুদউল্লাহ ৫২, সাকিব ২৬; এলিস ৩/৩৪

Please follow and like us: