মুজিবকোট ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন-71news24

কামাল হোসেন, একাত্তর নিউজ ২৪:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ পোশাক ছিল সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা আর ছয় বোতামের হাতাহীন কালো কোট। কালক্রমে এটি ‘মুজিবকোট’ নামে পরিচিতি পায়। মুজিবকোটের অপব্যবহার চলছে; তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের অনেক বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলছেন, গায়ে মুজিবকোট চড়িয়ে নয়, বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে হবে অন্তরে।

 

নব্য সুবিধাবাদীরা এখন নানা অপকর্ম জায়েজ করতে এ কোটের অপব্যবহার করছে। এগুলো এখনই বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন চান কেউ কেউ। একটা সময় দলের ত্যাগী প্রবীণ ও পোড় খাওয়া কিংবা বংশীয় আওয়ামী লীগের লোকেরা মুজিবকোট পরলেও অপকর্ম অপব্যবহার করেননি।

এখন অপব্যবহার বেড়ে চলেছে।

জানা গেছে, দল টানা প্রায় ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেক সুবিধাবাদী মুজিবকোটের অপব্যবহার করছে। অতিসম্প্রতি মুজিবকোট পরা আওয়ামী লীগ নামধারী সাহেদ করিম ও লোপা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা খেয়েছেন। নব্য আওয়ামী লীগাররা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে মুজিবকোট পরছেন।

আবার শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত যেকোন বয়সের লোক এই “মুজিবকোট” লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, করছে বিভিন্ন অপকর্ম  কিন্তু এই পবিত্র পোশাকের অনেক জায়গায় অবমাননাও হয়।

তাই এই পোশাকের ব্যবহার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা। কেউ কেউ বলছেন স্বাধীনতার জন্য যারা যুদ্ধকরেছেন কেবলমাত্র তারা মানে মুক্তিযোদ্ধা,  পার্লামেন্ট নির্বাচিত সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর তারাই কোর্ট পরার যোগ্যতা রাখে। এছাড়া যেকেউ এই সম্মানীয় পোশাক পরলে অপব্যবহার হতে পারে।

 

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর মাঠ পর্যায় কিংবা দলের ত্যাগী নিবেদিত নেতারা মুজিবকোট পরতেন ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার্য’ কোটকে আদর্শের প্রতীক হিসেবে। জাতির পিতার হাতে গড়া দলের নেতা-কর্মীরা এখনো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাননি এটা বোঝানোর জন্য। এখন কিছু টাউট-বাটপাড় ও চোর তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে এ কোট পরছে।

Please follow and like us: