যশোরে যত্রতত্র এলপিজি গ্যাসের ব্যবসায় দুর্ঘটনার শংকাঃ ঝুঁকিতে এলাকাবাসী-71news24

শেখ গফ্ফার রহমান, স্টাফ রিপোর্টার।

যশোর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা লাইসেন্স বিহীন দোকান গুলোতে অবাধে বিক্রি ওই জ্বালানী। এ সিলিন্ডারগুলো ব্যবহারে নেই কোন সতর্কতা।

 

সরকারী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। বাসাবাড়ির পাশাপাশি এখন রাস্তার পাশে খাবার দোকান ছাড়াও চায়ের দোকানগুলো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে দেদারছে।

নিয়ম না মেনে এসব সিলিন্ডার দোকানে বিক্রি ও ব্যবহারের ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে কয়েকটি ইউনিয়নে বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঔষধের দোকান, মুদি দোকান, ইট বালুর দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও কাপড়ের  দোকানেও অনিরাপদ স্থানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস।

 

দোকান গুলোর সামনে সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয় গ্যাস সিলিন্ডার গুলো। এভাবে খোলামেলা গ্যাস বিক্রি করায় চরম ঝুঁকিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে ক্রেতা, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ শিক্ষার্থীদের। নিয়মবহির্ভূত ভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা চললে যেকোনো মহূর্তে বড় ধরনের দর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

 

এছাড়া একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন, ঢাকা, খুলনাসহ অন্যান্য জেলায় জেলায় গ্যাসের যে মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ক্রেতাদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে  সিলিন্ডার প্রতি ১০০-২০০টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে।

 

অতিরিক্ত দাম ও অনুমোদনহীন ব্যবসা ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা চান পথচারী ও সচেতন মহল। জানা যায়, ২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করে তবে তিন বছরের কারাদন্ড ও অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত বিধান রয়েছে। এছাড়া বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। কিন্তু এই আইন কেউ মানছে না।

 

স্থানীয় প্রশাসনের ও নেই কোন পদক্ষেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু একটি সিলিন্ডার বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে আমাদের কোন ধারনা নেই। যশোর-সদরের এক চায়ের দোকানি  বলেন, কাঠের দাম বেশি থাকায় আমরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। একটি সিলিন্ডারে দাম ১ হাজার ২৫৯ টাকা হলেও সুযোগ বুঝে বিক্রেতা বেশি দাম নিয়ে নেন। এক সিলিন্ডার গ্যাস এক সপ্তাহ খুব সহজে চলা যায়। তবে এই সিলিন্ডারে  কোনো ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিভিন্ন দোকানে খোলা আকাশের নিচে দাহ্য পদার্থ বিক্রির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেকে কোমলপানীয় বোতলে ভরে পেট্রোল বিক্রি করছে। অনুমোদনহীন এসব দোকানের কারণে পার্শবর্তী দোকানদার ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Please follow and like us: