যশোরে কিংস হাসপাতালে সিজারের সময় নব জাতকের মাথাকেটে দিল ডাক্তার!

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

একাত্তর নিউজ ডেস্ক :   যশোর শহরের কিংস হসপিটালে এবার এক প্রসূতির সিজারের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গর্ভের সন্তানের মাথা কেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখার জন্য নবজাতককে কোন চিকিৎসাও করতে দেয়া হয়নি। অবস্থার অবনতি হওয়ার শুক্রবার সকালে নবজাতককে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে।

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতিঘাটা পান্থাপাড়া গ্রামের ইকরাম হোসেন জানান, তার স্ত্রী নাজনীন নাহার পলির (২৩) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর যশোর সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। ১০ জুলাই বিকেলে পেটটা একটু শক্ত হয়।

এসময় তাকে আনা হয় কিংস হসপিটালে। সেখানে যেতেই কথা হয় ডা. আতিকুর রহমানের সহকারী আমিনুর রহমানের সাথে।

এসময় তিনি তাদের জানান,কোন সমস্যা নেই স্যারের কাছে চলেন। চেম্বারে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সাথেই ডা. আতিকুর রহমান খান তাদের বলেন এখনি ভর্তি করে দেন। তার দ্রুত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

ইকরাম হোসেন আরো জানান, ভর্তির পরপরই কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ডা. আতিকুর রহমান তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। নবজাতককে বাইরে আনার পর দেখা যায় মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে।

তখন বিষয়টি জানানো হলে ডা. আতিকুর রহমান খান তাদের বলেন,মাথায় হালকা নখের চোট লেগেছে। সমস্যা নেই ঠিক হয়ে যাবে। এরপর বাঁচ্চাকে কোন ডাক্তার দেখাতে দেয়া হয়নি। বার বার বলা হয়েছে বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়ান। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। মাথা কেটে ফেলার ঘটনা ফাঁস হওয়ার ভয়ে কৌশলে নবজাতককে কোন চিকিৎসার পরামর্শ দেননি।

ইকরাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আমার শিশু সন্তান দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শুধু কাঁন্নাকাটি করতে থাকে। শুক্রবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। যে কারণে তাকে কিংস হসপিটাল থেকে নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নবজাতকের পিতা আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করার কারণে ডা. আতিকুর রহমান গর্ভের সন্তানের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছেন।

হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক কাজল মল্লিক জানিয়েছেন, নবজাতক শিশুটির মাথা কাটা অবস্থায় এখানে আনা হয়েছে। কিভাবে তার মাথা কেটেছে ভর্তির সময় তা শোনা হয়নি।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. আতিকুর রহমান খানের কোন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ডিগ্রি নেই। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক মাত্র। তৎকালীন সময়ে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন।

পরে যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। এই পদ থেকেই তিনি অবসরে যান। বর্তমানে কিংস হসপিটালে ডা. আতিকুর রহমান খান গাইনী ও সার্জারী বিভাগের রোগীদের অস্ত্রোপচার করেন।

আবার অস্ত্রোপচারের আগে তিনি নিজেই নিয়ম না মেনে রোগীর অজ্ঞান করেন। ডা.আতিক জেলা স্বাচিপের সভাপতি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে নিরব ভূমিকায় থাকেন।

এ বিষয়ে ডা: আতিকুর রহমান খান জানিয়েছেন, রোগীর পানির পরিমান একেবারেই কম ছিলো। তাই তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এসময় ব্লেডের আঘাতে আনুমানিক তিন মিলিমিটার লম্বায় ও আধা মিলিমিটার গভীরে ক্ষত হয়েছে। সামান্য বিষয়টিকে বড় করা হচ্ছে।

 

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,যে কোন রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই অস্ত্রোপচার করার নিয়ম।

তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর অজ্ঞানের জন্য একই ডাক্তার দায়িত্ব পালনের কোন নিয়ম নেই। অবশ্যই সেখানে আলাদা একজন অজ্ঞানের চিকিৎসক উপস্থিত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে গত ১ জুলাই কিংস হসপিটালে ছায়রা বেগমের (৪৫) পাইলসের পরিবর্তে জরায়ু অস্ত্রোপচার করেন ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারকারী ডা. সাদিয়া শাহীন। পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীর অস্ত্রোপচার করেছিলেন বলে স্বজনদের অভিযোগ।

Please follow and like us: