আজ - রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ৩:২০

ধর্ষ/ণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার

একাত্তর নিউজ ২৪ডেস্ক, ঢাকা :

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে, শুক্রবার রাতে জিসানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও ওষুধের মাধ্যমে ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

পুলিশের ভাষ্য, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় জিসান স্বেছায় আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল। অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক। তিনি শিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। জিসান জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা পুলিশ সুপার বলেন, ৫ থেকে ৬ মাস আগে ফেসবুকে জিসানের সঙ্গে এক নারীর পরিচয় হয়। গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবে বলে সম্মতি দেন।

 

পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার জিসান বিয়ে না করার টালবাহানায় নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান। জিসানের উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে আরও তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতেই নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, জিসানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও তিনি এখন সুস্থ। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ: বারী আমাদের এ প্রতিবেদককে বলেন, আজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলায় জিসানসহ ছাড়াও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে তার তিন সহযোগীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা হলেন- সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজিব হাসান (২১)। তাদের বাড়ি দাউদকান্দিতে।

সংগঠন থেকে বহিষ্কার
এদিকে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী শিবির নেতা জিসান আহমেদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ। শনিবার দুপুর ২টার দিকে এস এম ফরহাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সকল প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।’

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত