
দুর্নীতি আর অনিয়মই শেষ কথা কোটচাঁদপুরের ডেপুটি বন রেঞ্জার শফিকুল ইসলামের
রেজওয়ানুল ইসলাম বাপ্পি, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত ককর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সরকারি বনায়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ , নিয়মিত অফিস না করা,অফিস স্টাফদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
অফিসে না এসে বিভিন্ন উপজেলার বনায়ন পরিদর্শনের কথা বলে সে সময় পার করে। অথচ তিনি দায়িত্ব রয়েছেন কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বনায়ন প্রকল্পের।
অথচ তিন উপজেলাতে দৃশ্যমান তেমন কোন বড় সামাজিক বনায়ন প্রকল্প নেই।
এছাড়া অফিসের বন বিভাগের দোতালায় বরাদ্দবিহীন নিজের ও পরিবার নিয়ে সে স্থায়ী বাসা হিসেবে ব্যাবহার করছেন। এ কারণে অপচয় হচ্ছে সরকারের পানি ও বিদ্যুৎ। অথচ তার থাকার জন্য বন বিভাগের মধ্যে রয়েছে নিদিষ্ট কোয়ার্টার। সেখানে না থেকে সেই ভবনে রেখেছেন অফিসের কর্মরত এক বাগান মালি।
বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাওয়া শফিকুল ইসলামের কিছু অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হলো।অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:নিট/বিনামূল্যে পাসের নামে অবৈধ আদায়: বনজ দ্রব্য পরিবহন ও ট্রান্সপোর্ট পারমিশন (TP) পাসের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ফি দেওয়ার বিধান নেই। অথচ শফিকুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতিটি পাসের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বখরা আদায়ের করে থাকেন। এজন্য তার রয়েছে একটা নিজস্ব সিন্ডিকেট।

উপজেলা জুড়ে রয়েছে শতাধিক অবৈধ করাতকল (স-মিল)। এসব অবৈধ লাইসেন্স বিহীন করাতকলের মালিকের নিকট থেকে নিয়মিত মাসহারা আদায় করেন এই বন কর্মকর্তা। এর ফলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতি উপেক্ষা না করায় কাঠ পাচার যত্রতত্র অবৈধ করাতকলের সংখ্যা বাড়ছে।
এতে বনজ ও ফলদ গাছ নির্বিচারে উজাড় হলেও স্থানীয় বন কর্মকর্তারা কার্যকরী কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন না। আবার করাত কলের লাইসেন্স নিতে গেলেও টেবিলের নিচ দিয়ে দিতে হয় মোটা অংকের ঘুষ।
প্রকল্পে দুর্নীতি ও নজরদারি অভাব: সামাজিক বনায়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের লভ্যাংশ প্রদানেও নানা জটিলতা তৈরি করেন সে।
এছাড়া নার্সারী থেকে গোপনে ভাউচার বিহীন নানা ধরনের চারা বিক্রি করে থাকেন ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলাম।
পরবর্তীতে সেই চারা বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রকল্পের অধীনে বিনামূল্যে বিতরণ দেখিয়ে দেন। এসব নানা অনিয়মের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জারের কাছে জানতে চাইলে সে বলেন,সরকারি অফিস শতভাগ সঠিক চালানো কঠিন এখানে সবাইকে নিয়ে চলতে হয়।আপনারা সবই বুঝেন এতো কথা বলে লাভ কি?
আসেন বসেন চা নাস্তা খায় নিউজ করে আপনি কি একা দেশ ভালো করতে পারবেন?
তাহলে লেখেন। এ বিষয়ে যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মন্ডলের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।