আল কোরআন মেনে চলার সুফল-

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

আল কোরআন মেনে চলার সুফল

 

যদি আমরা আল-কুরআনের পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করি, তবেই আমরা কুরআন মেনে চলার সুফল লাভ করতে পারব। মানব রচিত মতাদর্শ আর কুরআনিক মতাদর্শ এ দু’য়ের সমন্বয়ে যদি তৃতীয় একটি মনগড়া মতাদর্শ দাঁড় করিয়ে এর অনুসরণ করি, তাহলে কুরআন কখনো আমাদের জন্য রহমত বয়ে আনবে না, বরং এর পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা আল বাকারার ৮৫ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের একাংশে বিশ্বাস করো আর আরেক অংশ অবিশ্বাস করো কখনো যদি কোনো ব্যক্তি এ আচরণ করে, পার্থিব জীবনে তাদের লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে, পরকালেও তাদের কঠিনতর আজাবের দিকে নিক্ষেপ করা হবে, তোমরা যা করছ, আল্লাহ তায়ালা সেসব কিছু থেকে মোটেই উদাসীন নন।’

আমরা যখন কুরআন পড়ব অবশ্যই তা বোঝার চেষ্টা করব। তাহলে কুরআনের প্রতি অন্তরে এক ধরনের ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। এ ভালোবাসাই কুরআনকেন্দ্রিক জীবন গঠনে সহায়ক। মানুষ যখন কোনো ভালো কাজ করতে যায় তখন ইবলিশ তাতে বাধা দেয়। কিন্তু যখন কোনো মানুষ কুরআন পড়তে বা বুঝতে চায় তখন শয়তান এত বেশি বাধা দেয় যা অন্য কোনো ভালো কাজের সময় করে না। এর কারণ? কারণ, মানুষ যাতে কুরআন বুঝতে না পারে। একবার যদি মানুষের অন্তর কুরআনের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়, তাহলে তার দ্বারা যেমন পাপাচারে লিপ্ত হওয়া সম্ভব হবে না তেমনি অন্যরাও যাতে পাপ কাজে লিপ্ত হতে না পারে সে বিষয়েও সে সোচ্চার হয়ে উঠবে। তাই মুসলমানরা কুরআন থেকে দূরে থাকলে শয়তান বেশি খুশি হয়। এ জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল-কুরআন অধ্যয়নের সময় শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়ার কথা বলেছেন। বর্তমান সময়ে মানুষের অন্তরে আল-কুরআনের প্রতি আকর্ষণ কমেছে। আকর্ষণ বেড়েছে শরিয়তবিরোধী শয়তানি কাজগুলোর প্রতি। যার মধ্যে কল্যাণ নেই তাকেই মনে করা হচ্ছে কল্যাণের বিষয় হিসেবে। দিন দিন তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকে যাচ্ছে সে দিকে। যদি আপনি মনে করেন, কুরআন পড়তে, কুরআন শুনতে, কুরআন বুঝতে ও কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে আপনার ভালো লাগছে না, আপনার আকর্ষণ অন্য দিকে, তখন অবশ্যই বুঝে নিতে হবে আপনি শয়তানের ধোঁকায় পড়েছেন। তাহলে আপনাকে অনুরোধ করব, শয়তানকে কোনোরকম প্রশ্রয় না দিয়ে কুরআনের দিকে ফিরে আসুন। কারণ, কুরআনেই বরকত, কুরআনেই নাজাত।

আল-কুরআনের পথে যারা চলবে এই পথই তাদের জন্য মুক্তির বার্তা নিয়ে আসবে। খুঁজে পাবে জীবনের এক নতুন দিগন্ত। কুরআনের খাদেমদের দুনিয়াতে যেমন সম্মান রয়েছে তেমনি আখিরাতে আছে তাদের জন্য অনাবিল শান্তির নিশ্চয়তা। যদিও কাফির-মুশরিকরা তাদের ভূলুণ্ঠিত করতে চায়, কিন্তু তারা তা কখনোই পারবে না। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্যে পরিণত হবে।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়াতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। যুগ ও কালের পরিক্রমায় নবী-রাসূল থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কেরামসহ কিয়ামত পর্যন্ত যারা কুরআনের দাওয়াত নিয়ে মানুষের কাছে গিয়েছেন বা যাবেন তারা নানারকম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ও হবেন এটাই চিরন্তন। এটাই কুরআন বলছে। তবু দ্বীনের দ্বায়িদের কুরআনি দাওয়াত থেকে ফেরানো যাবে না। যে মানুষটি কখনো জীবনে মিথ্যা কথা বললেন না, মানুষকে কষ্ট দিলেন না, আমানতের খিয়ানত করলেন না, মানুষের কষ্টকে নিজের কষ্ট বলে মেনে নিতেন, সেই মানুষটি যখন নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে দ্বীন তথা কুরআনের দাওয়াত দিলেন তিনি পরিণত হয়ে গেলেন চরম শত্রুতে। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে দিতে চাইল।

সুতরাং আল-কুরআনের পথে হাঁটতে গেলে, মানুষকে এই পথের দিকে আহ্বান করলে শয়তানি শক্তি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই দাঁড়িয়ে যাবে। এরপরও যারা অন্ধকারের পথ ছেড়ে কুরআনের পথে আসতে চাইবে কুরআন তাদের অবশ্যই স্বাগত জানায়। তাই তো আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদায় বলেছেন, ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলোকবর্তিকা ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর দ্বারা আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর তাদেরকে তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করেন।’

শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই পথভ্রষ্ট এই মানুষগুলোকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। মুহাম্মদ সা:-এর পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী-রাসূলের আগমন ঘটবে না। কারণ, আমাদের মাঝে এমন এক আসমানি কিতাব আল কুরআন রয়েছে যার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। এই কুরআন ও সুন্নাহর মাঝেই মানুষ খুঁজে পাবে তাদের সব সমস্যার সমাধান। এ দুটি জিনিসই মানুষকে মুক্তির দিশা দেবে। আরো রয়েছেন ওলামায়ে কেরাম। যারা নবীদের উত্তরসূরি। তারা দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। মানুষের আছে বিবেক। চিন্তা গবেষণা করার শক্তি। আমাদের চার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আল্লাহকে জানা ও বোঝার জন্য হাজারো নিদর্শন। এমনকি মানুষের শরীরে এমন কিছু নিদর্শন রেখেছেন যা আল্লাহকে চেনার জন্য যথেষ্ট।