যশোরের ঐতিহাসিক জনসভায় ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

 

শেখ গফ্ফার রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিপুল জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশে যশোরে সম্পূর্ণ হয়েছে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা। দুপুর ৩টার পর মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেওয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

ভাষণে আওয়ামী লীগের সময়েই দেশের উন্নয়ন হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে যশোরে রেল আসবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যশোরের অবদান আমরা ভুলতে পারি না।

 

রিজার্ভ নিয়ে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রিজার্ভে কোনো ঘাটতি নেই। ব্যাংকে টাকা নেই, এসব ডাহা মিথ্যা কথা। সারা পৃথিবীতে মন্দা চললেও বাংলাদেশ এখনো শক্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। রক্ত আর হত্যা ছাড়া বিএনপি আর কিছু দিতে পারেনি।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। জনসভার সভাপতি ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন প্রারম্ভিক বক্তব্য দিয়ে জনসভা শুরু করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভা স্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা স্থল পেরিয়ে আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। পুরো শহর উৎসবমুখর হয়েছে উঠেছে।

 

স্লোগানে স্লোগানে ঢাকঢোল বাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষায় সময় গুনছে লাখ লাখ জনতা।

 

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে লোকজন আসা শুরু করে। বেলা ১টার দিকে জনসভা মাঠ পরিপূর্ণ হয়েছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষ জনসভা স্থলে প্রবেশ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে।

 

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন জানান, শেখ হাসিনার জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেই পরিশ্রমের সার্থকতা প্রমাণ হওয়ার পথে। ইতোমধ্যে জনসভা মাঠ ভরে গেছে। পাঁচ লাখের ওপরে মানুষ মাঠে প্রবেশ করেছেন। আশা করছি ১০ লাখের ওপরে লোক উপস্থিত হয়েছেন।

 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমানঘাঁটিতে বার্ষিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিএএফ একাডেমিতে পাসিং আউট কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেছেন।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ব্যানারে ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম জনসভা। তার আগমন ঘিরে গোটা যশোর তখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছিলো।