যশোরে রিক্সাচালককে পিটিয়ে হত্যা

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

স্টাফ রিপোর্টার, একাত্তর নিউজ :

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে প্রকাশ্যে দিবালোকে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে  আলমগীর হোসেন আলম (৪৫) নামে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রসীরা।

 

এ ঘটনায় ৪জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

নিহত রিক্সা চালক কুষ্টিয়া সদরের শামসুল মণ্ডলের ছেলে। তিনি ২০ বছর যাবত ছাতিয়ানতলা হঠাৎ পাড়ায় রেলওয়ের জমিতে বাড়ি করে বসবাস করেন।

 

 

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে চুড়ামনকাটি বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়,আলমগীর হোসেন আলম দীর্ঘ ২০ বছর যাবত  চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা হঠাৎ পাড়ায় বসবাস করে আসছে। তিনি চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার সাথে থেকে তার সাথে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতেন। যে কারণে এলাকায় অপর একটি গ্রুপের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে।

 

এর আগে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকি দিতো বলে তার স্ত্রীর অভিযোগ। নিহতের স্ত্রী রোকসানা জানান, শুক্রবার দুপুরে রুনু, মানিক, রকসিসহ ১৫/২০ জন বর্তমান চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী তার স্বামীকে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে তুলে নিয়ে বাজারের পাশে কাজীর পুকুর নামকস্থানে নির্জনস্থানে নিয়ে লোহার রড়সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে দুই পা দুই হাত ভেঙ্গে মৃত ভেবে ফেলে রেখে দেয়।

 

পরে খবর পেয়ে পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সাজিয়ালী পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ এস আই সেলিম হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে সে হাসপাতালে মারা যায়।

 

 

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী মেহেদী হাসান রুনুর নেতৃত্বে আলমকে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

 

তিনি আরো বলেন,মূলত আমার সাথে রাজনীতি করায় আমার প্রতিপক্ষরা প্রায় আলমকে আমার সাথে না থাকার জন্য হুমকি দিতো। তাদের কথা না শোনার কারণে তারা আলমকে হত্যা করেছে। তিনি দ্রুত খুনিদের আটকের দাবি জানান।

 

চুড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, আলম এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াতো। তার নামে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মূলত এই সব কর্মকাণ্ডের জের ধরে সে খুন হতে পারে।

 

তিনি আরো বলেন, আলম হত্যাকাণ্ডে আমার ছেলেসহ এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসাতে একটি মহল পায়তারা চালাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের নিকট আলম হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রকৃত খুনিদের চিহিৃত করে আটকের দাবি জানান।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল আহমেদ,যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামসহ ডিবি পুলিশের একাধিক টিম।

 

এদিকে পুলিশ এ ঘটনায় চুড়ামনকাটির বিভিন্ন স্থান থেকে মানিক, জাকির হোসেন দারা, রকসি ও ৫ নং ইউপি সদস্য মাহবুব হাসান রানুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

 

হত্যাকাণ্ডের পর গোটা চুড়ামনকাটি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।