যশোরে রিক্সাচালক আলম হত্যাকাণ্ডে ১১জনকে অভিযুক্ত করে মামলা,গ্রেফতার ২

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

স্টাফ রিপোর্টার,একাত্তর নিউজ২৪.কম:

যশোরের চুড়ামনকাটিতে প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগ কর্মী আলমগীর হোসেন আলম মন্ডল (৪৫) খুনের ঘটনায় এলাকার চিহ্নিত ১১ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। আসামি আটক ও হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ জানতে কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ অভিযান চলমান রেখেছে। ঘটনার দিন আটক দুই জনকে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।

পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এই খুনকে সামনে এনে এলাকায় একই রাজনৈতিক দলের দুটি পক্ষের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। এছাড়া ঘটনাস্থল এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

 

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার অনুসারী আলমগীর হোসেন আলম মন্ডল পেশায় ছিলেন রিকসা চালক ও আওয়ামী লীগ কর্মী। এ কারণে এলাকায় অপর একটি গ্রুপের সাথে তার বিরোধ ছিল। হত্যাকান্ডের আগে থেকেই বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের লোকজন তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই কয়েকদিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে তাকে খুন করে চিহ্নিতরা।

তার স্ত্রী রেকছনা বেগম ঘটনার দিন প্রাথমিকভাবে জানান, এদিন দুপুরে দাউদ চেয়ারম্যান পক্ষীয় রুনু, মানিক, রকসিসহ ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী দল আলমগীরকে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে তুলে নিয়ে পাশে কাজীর পুকুর নামক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। তারা সেখানে লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে দুই হাত ও দুই পা ভেঙে আলমগীরকে ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ আলমগীরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে আটক করে চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের ছেলে তানভীর হাসান রক্সি (৩২) ও আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে মানিককে (৪০)। এদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ছাতিয়ানতলায়।

নিহত আলমগীর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শামসুল মন্ডলের ছেলে। তিনি ২০ বছর ধরে ছাতিয়ানতলা হঠাৎপাড়ায় রেলওয়ের জমিতে বাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। এছাড়া স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে যশোর শহরের পালবাড়ি এলজিইডি অফিস এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী রোকছনা বেগম। আটককৃত দু’জনসহ আসামি করা হয় এলাকার ১১ জনকে। অন্যরা হচ্ছে চুড়ামনকাটির মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান রুনু (৩২), ছাতিয়ানতলা মাঠ পাড়ার শহিদের ছেলে সুমন হোসেন (৩৫), কুটিপাড়ার ওসমানের ছেলে মাহমুদুল হাসান মামুন (৪০), ছাতিয়ানতলা মন্ডল পাড়ার জালালের ছেলে স্বাদ (২৫),  চুড়ামনকাটির রবির ছেলে রকি (৩৫), বাগডাঙ্গা পালপাড়ার মজনুর ছেলে ইকরাম (৩৯), মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম, (৪৫) চুড়ামনকাটির  মোফাজ্জেল  হোনেসের ছেলে রানা (৪০) ও  শ্যামনগরের আষাড়ের ছেলে বদিউজ্জামান বাদল (৪২)।

আটক দুই জনকে আজ শনিবার আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাকিদের আটকে থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনেরও চেষ্টা চলছে।

এছাড়া আরো কয়েকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও কাজ করছে।

উল্লেখ্য, পুলিশ এ ঘটনার দিন চুড়ামনকাটির বিভিন্ন স্থান থেকে মানিক, জাকির হোসেন দারা, রক্সিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পুলিশ অবশ্য পরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাহবুব হাসান রানু ও জাকির হোসেন দারাকে ছেড়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার কোন তথ্য জানা যায়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়।

এদিকে, হত্যাকান্ডের পর গোটা চুড়ামনকাটি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই রাজনৈতিক ঘরানার দুটি পক্ষে এখনও উত্তেজনা চলছে।

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শেখ মনিরুজ্জামান একাত্তর নিউজ২৪ ডটকম কে জানিয়েছেন, মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিরা সবাই এলাকার এবং চিহ্নিত। দ্রুতই সবাইকে আটক কর হবে। কেন এই হত্যাকান্ড এ নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার আসামিরা ছাড়াও পেছনে কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।