আজ - সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - সকাল ১০:৫১

যশোরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিং ডা. রাফসান জানি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর নিউজ ২৪:

যশোরে শ্যালিকাকে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে বহুল আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান জানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাতে যশোর উপশহর এলাকার নিজস্ব বাসভবন থেকে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। আজ রোববার (২৪ মে) বিকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত ডা. রাফসান জানি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ।
পড়াশোনার নামে ডেকে নিয়ে জঘন্য অপরাধ
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনা করানো এবং নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে শ্যালিকাকে যশোরে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন ডা. রাফসান। সেখানে অবস্থানকালে ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন ওই চিকিৎসক।
বাসা ভাড়া নিয়ে নির্যাতনের নতুন ফাঁদ
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন ও নানামুখী আশ্বাস দিয়ে মণিরামপুর উপজেলা সদরে একটি বাসা ভাড়া নেন ডা. রাফসান। সেখানে ওই তরুণীকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। দিনের পর দিন এমন নির্মম নির্যাতন সহ্য করার পর, কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্যালিকা।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার
মণিরামপুর থানার ওসি মো. আবু সাঈদ জানান:
মামলা দায়েরের পর থেকেই ডা. রাফসান জানি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে নজরদারি বাড়ায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে যশোর উপশহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা।”
এলাকায় চাঞ্চল্য ও পাল্টাপাল্টি মামলা
উল্লেখ্য, ডা. রাফসান জানিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বেশ কিছুদিন ধরেই যশোর ও মণিরামপুর এলাকায় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং একাধিক সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও ঘটেছে। আজ পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত