আজ - সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ৯:৫৭

টাঙ্গাইলে ঘুষের টাকা সহ সহকারী রাজস্ব কর্ম কর্তা আটক

 মো: আ: হামিদ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: র্টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌসকে ঘুষের ১৫ হাজার টাকাসহ আটক করেছে দুদক। মঙ্গলবার (২২অক্টোবর)দুপুরে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌস রাজশাহী জেলার রাজপাড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোসলেম আলীর ছেলে। জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কয়ড়া গ্রামের স্বর্গীয় মনিন্দ্র পালের ছেলে গোবিন্দ কিশোর পাল তার মুক্তা ফুড প্রডাক্টসের নিবন্ধনের জন্য টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ে যান। ওই কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌসের সঙ্গে তার আলাপ হয়। এ সময় নিবন্ধন করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। মায়ের অসুস্থতার জন্য গোবিন্দ কিশোর পাল ১৫ হাজার টাকায় মুক্তা ফুড প্রডাক্টসের নিবন্ধন করে দেয়ার অনুরোধ করেন। এতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌস রাজি হয়ে গোবিন্দ কিশোর পালের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। টাকা পেয়েও নিবন্ধন করে দিতে গড়িমসি করলে এক পর্যায়ে গোবিন্দ কিশোর পাল দুর্নীতি দমন কমিশনের টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বিষয়টি জানান। খবর পেয়েই দুদক টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান টাঙ্গাইল কাস্টম, এক্সাইজ ও ভাট কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌসকে ঘুষ নেয়ার বব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় ঘুষ হিসেবে নেয়া টাকার নম্বর বলার পর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌস তার কাছে থাকা টাকা বের করে দেন। ওই টাকায় গোবিন্দ কিশোর পালের দেয়া নম্বর মিলিয়ে ১৫টি এক হাজার টাকার নোটে ১৫ হাজার টাকা জব্দ এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে আটক করে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। গোবিন্দ কিশোর পাল জানান, নিবন্ধনের জন্য সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌস ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ১৫ হাজার টাকা দেয়ার পরেও তিনি নিবন্ধন করে দিতে গড়িমসি করায় তার সন্দেহ হয়। সন্দেহ হওয়ায় টাকা দেয়ার আগে তিনি প্রতিটি এক হাজার টাকার নোটের নাম্বার লিখে রেখেছিলেন। এ প্রসঙ্গে দুদক টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাদের কাছে অভিযোগ ছিল নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় ১৩ ডিজিটের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ঘুষ দাবি করছে ভ্যাট কর্মকর্তা। এ খবরের ভিত্তিতে তারা টাঙ্গাইল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ঘুষের ১৫ হাজার টাকা সহ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মারুফ ওরফে ফেরদৌসকে আটক করেন তারা। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দুদক আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত