
একাত্তর নিউজ ২৪ ডটকম, যশোর :
যশোর সদর উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ ও কৃষি প্রণোদনার অর্থ প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার হৈবতপুর কৃষি ব্লকের ২ হাজার ৪০৪ জন কৃষককে কৃষক কার্ড ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের বারীনগর বাজারে আব্দুল বারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে স্থানীয় কৃষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা মূল অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

স্থানীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস।
আয়োজকরা জানান, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য হৈবতপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হৈবতপুর কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়। এ ব্লকে মোট কৃষক ২ হাজার ৬৩৫ জন এবং আবাদি জমির পরিমাণ ১ হাজার ২০৪ হেক্টর। তথ্য সংগ্রহ শেষে তাঁদের মধ্য থেকে ২ হাজার ৪০৪ জনকে কার্ড ও আর্থিক সহায়তার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য উপখাতের কৃষকেরাও রয়েছেন।
কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং কৃষিসেবা গ্রহণ সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, উদ্বোধনী আয়োজনের আওতায় দেশের ৫৫টি জেলার ৭১টি উপজেলার ৭১টি কৃষি ব্লকের প্রায় এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাবে কৃষি প্রণোদনার অর্থ বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কৃষক কার্ডের সুবিধার মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ, সেচসহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি। এ ছাড়া কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি, আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং মোবাইলে ফসলের রোগবালাই, আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে কৃষিবিমা ও কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুবিধার সঙ্গে কৃষকদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি প্রি-পাইলট, পাইলট ও সারা দেশে সম্প্রসারণ—এই তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাইলট কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।