আজ - সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ৩:৪০

চলে গেলেন সাতক্ষীরার মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী আতিয়ার রহমান গদাই

চলে গেলেন সাতক্ষীরার মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী আতিয়ার রহমান গদাই

মোমিনুর রহমান,সাতক্ষীরা :
মহান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী বীরমুক্তিযোদ্ধা, রনাঙ্গনের বীরসেনানী আতিয়ার রহমান গদাই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন।পাক বাহীনীর সাথে সম্নুখ যুদ্ধের মহানায়ক আতিয়ার রহমান গদাই পারুলিয়ার মৃত এজাহার আলী সরদারের কনিষ্ঠপুএ। আজ সকাল ছয়টার দিকে পারুলিয়াস্হ নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান এই প্রয়াত বীর সেনানী তিন পুএ সন্তানের জনক।বড়পুএ তাহজ্জত হোসেন হিরু ব্যাংকার, দ্বিতীয় পুএ সাহাদাৎ হোসেন হিরু বিসিএস ক্যাডার আনসার বাহিনীর ২৪ ব্যাটলিয়নের কমাণ্ডার ও কনিষ্ঠপুএ মিথুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধত্নত কর্মকর্তা।এই বীরযোদ্দার মৃত্যুর খবর প্রচার হলে মূহুর্তে পারুলিয়ার জনজীবনে শোকাহত পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে।সব শ্রেনির মানুষের প্রিয় স্বজন গদাই নামে বেশী পরিচিত মানুষটি ছিলেন সব ধরনের বিতর্কের উর্ধে।মানুষের অভাবে তিনি সহায়তায় এগিয়ে আসতেন।পিতা,মাতার জীবন দশায় পিতার থেকে অর্থ,ধান,চাল নিয়ে গরীব দুঃখীদের দেয়ার যে অভ্যাস তৈরী করেন নিজের জীবন দশাতে ও গরীব, অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায় করে গেছেন। দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার বীরমুক্তি যোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী মোল্ল্যা বলেন,আমি গদাই চাচার সাথে বিহারে প্রশিক্ষন গ্রহন করি,তিনি আমাকে, মশুভাই কে সহ প্রয়াত এ্যাডঃ ইউনুস আলী,ইয়াছিন মেঝে ভাই,সহ অনেক কে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রশিক্ষনে একসাথে রওয়ানা হই। বিহার, দেরাদু ও হাবলঙে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জন প্রশিক্ষন গ্রহন করি। পিতা মাতার অতি আদরেরর গদাই অতি সুঠাম দেহের অধিকারী ৭১ সালে কাউকে না জানিয়ে দেশকে স্বাধীন করার দুর্দান্ত ইচ্ছাশক্তিতে আমাদের নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেন। গদাই চাচার একমাএ বড় ভাই আমাদের শ্রদ্ধাভাজন লুৎফর রহমান সরদার চাচা গদাই চাচার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বিষয় জানতেন এবং সহযোগিতা করেন। তিনি ছিলেন অসীম সাহসী। পাক বাহিনীর প্রতি ছিলেন চরম ক্ষুদ্ধ।গদাই চাচা বলতেন আমি পাক সেনাদের মুখোমুখি হবো এবং যুদ্ধ মাঠে পরাজিত করবোই। আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় গদাই চাচার দেশপ্রেম আর সম্নহোনী শক্তি,বীরত্ব এবং আত্নত্যাগ বীরত্বগাঁথা হয়ে থাকবে।,পাক বাহিনীর সাথে দেবহাটা ও সাতক্ষীরার একাধীক যুদ্ধে তিনি জীবনপন যুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাদের পরাস্হ করেন এখানেই শেষ নয়, আমাদের গদাই চাচার বন্দুকের গুলি ফুরিয়ে গেলে তিনি যুদ্ধরত থাকা অস্ত্রসহ পাকসেনাকে জাপটে ধরে বন্দী করে।প্রয়াত বীরসেনানীর বীরত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কয়কটি যুদ্ধে জয় পায় এবং বহু মুক্তিযোদ্ধারর জীবন রক্ষা করতে তিনি বীরত্বময় ভূমিকা রাখেন। মরহুমের পারিবারীক সূএ জানায়,গত কয়েকমাস যাবৎ তিনি শারিরীক অসুস্হতা জনিত করনে বাসভবনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।আজীবন সাধারন জীবন যাপনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে ভারতীয় অধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কারীদের অন্যতম।রনাঙ্গনের সাথী মেজর জলিল, আ,স,ম আব্দুর রবে সহ অন্যান্য জাতীয় নেতাদের সাথে একাত্বতায় জাসদ রাজনীতে সম্পৃক্ত হন ও সমাজতন্ত্রে দীক্ষা নেনএবং সারা বাংলাদেশের ন্যায় ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাষ্টারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে সাতক্ষীরায় জাসদের কলেবর বৃদ্ধিতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।জাসদ রাজনীতি করার কারনে ৭১ পরবর্তি সরকারের সময়গুলোতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, ,রক্ষী বাহিনী কর্তৃক শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন।বাংলাদেশের রাজনীতির পরিচিত নাম সিরাজুল আলম খানের অতি কাছের মানুষ ছিলেন এই প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা।সাধাসিধে অথচ বজ্র কঠিন বীরত্বের আর দেশপ্রমের অদিকারী প্রয়াত আতিয়ার রহমান রা বারবার আসে না,তিনি যেমন তার মত ছিলেন অনুরুপ তিনি আর ফিরবেন না,তিনি আর আসবেন না,আজ বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারীক কবরস্হানে চির নিন্দ্রায় শায়িত হবেন।

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত