আজ - সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ৯:৩৩

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষদের দৈনন্দিন কাজ-কর্ম স্থবির-71News24

 

শেখ গফ্ফার রহমান, একাত্তর নিউজ ডেক্সঃ

গত কয়েকদিন থেকে সারাদেশে তীব্র শীত জেকে বসেছে তার পর আজ থেকে শুরু হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। হাড় কাপানো শীতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বাড়ছে শীতজনিত নানা অসুখ বিসুখ।

পৌষের প্রথম দুই দশকে শীত কম থাকলেও শেষ সময় এসে প্রকৃতি জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আসল পরিচয়। কুয়াশার পরিমাণ কম থাকলেও কনকনে হিমেল হাওয়া বইছে প্রিয় জেলা যশোর সহ সমগ্রদেশে।

বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র শীত পড়েছে। একেবারেই বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুস্থ ও ছিন্নমূলরা। শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড় কেনার হিড়িক পড়েছে।

শীত নিবারণের জন্য মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। আজ সকাল  থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্য শহর ও মফস্বলের গরম কাপড়ের মার্কেট এলাকায় শত শত মানুষকে শীতের কাপড় কিনতে দেখা গেছে। গ্রামগঞ্জেও আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে বাচার চেষ্টা করছে মানুষ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের

তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের মাত্রা বেশি। শীতবস্ত্রর অভাবে খুব কষ্ট হচ্ছে।  এখন পর্যন্ত সরকারী বা বে-সরকারি কোনো শীতবস্ত্র পাইনি মেহনতী মানুষেরা।

অসহায় মেহনতী মানুষদের শীত তীব্র আকার ধারণ করেছে। শীতে জবুথবু মানুষ বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। গ্রামের ও শহরের খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষরা কাঠ ও খরকুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকদিন থেকে শীতল হাওয়া বইতে থাকলেও দিনে সূর্যের তাপ ছিলো, বাতাসের পরিমাণ অনেকটা কম ছিলো, কিন্তু তারপরও কমেনি শীতের প্রকোপ।

দেশের উত্তরের জনপদের মানুষের মধ্য থেকে এমন

কথা প্রায়ই শোনাযাচ্ছে…..

‘‘শীতোত মরি গেনো বাহে, এনক্যা শীতো কমদেখিছুনি, মনে হওছে দম বন্ধ হয়া যাওছে, হামরা দিন আনি দিন খায়,শীতের কাপড় কিনবু ক্যামনহে?

হামারা ছোলপোল নিয়া খুব কষ্টত আছি, হামার দিকে দেখার কেউ নে গরিব মাইনসের মরাই ভালো।”

শুধু তারাই নন শীতে অসহায় ও গরিব লোকজনও সবার অবস্থাই এমন।

এ অবস্থায় গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষজন।

শীতের কারণে মাঠের কাজে যেতে পারছেন না কৃষকরা।  তীব্র শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে গবাদি পশু পাখিরও। তীব্র শীতে দেশের বেশ কিছু জেলার জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। শীতে বৃদ্ধ এবং শিশুদের দেখা দিয়েছে সর্দিজ্বর, ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়া বা ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তীব্র শীতের কারণে বিভিন্ন সরকারি ভবন, রেলস্টেশন, ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণকারী ছিন্নমূল মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে।

শীতার্ত মানুষগুলো এক টুকরো গরম কাপড়ের জন্য

তাকিয়ে আছে সরকার ও বিত্তবান মানুষের দিকে।

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত