আজ - বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ৪:৪৯

ঝিনাইদহে মানবপাচারকারী ফজলু দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত একাধিক পরিবার

মানবপাচারকারী ফজলু দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত একাধিক পরিবার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মানবপাচারকারী ফজলু রহমান সেখের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন একাধিক পরিবার। বহু বেকার যুবককে প্রবাসে পাঠানোর নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ,লক্ষ টাকা। ফজলুর নেতৃত্বে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে মানবপাচারের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মালয়েশিয়া থেকে ফজলু সরাসরি এসব সিন্ডিকেট তার স্ত্রী ফজেলা খাতুন ও তার বড় ছেলে নাসিম শেখেরর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায় ফজলু বিশ্বাস মালয়েশিয়া,লিবিয়া, মিশর,সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,ইটালি, সাইপ্রাস, অস্ট্রেলিয়া কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে কাজের ভিসা প্রসেস করে দিতে পারে এসব কথা বলে সে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক ব্যাক্তিদের টার্গেট করে।
এরপর শুরু প্রতারণার অভিনব এক কৌশল। প্রথমে বিদেশে গমন আগ্রহীদের নিকট থেকে তার স্ত্রীর মাধ্যমে পাসপোর্ট জমা নেন। তারপরে মেডিকেল করার জন্য ঢাকায় তার নির্ধারিত দালাল অফিসে পাঠান। এরপরে তাদের নিকট থেকে দুই লক্ষ থেকে শুরু করে পাঁচ ও দশ লক্ষ করে টাকা জমা নেন। মানব পাচারের এসব টাকা সে তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন এর ব্যাংক হিসেবে জমা করেন। টাকা নেওয়ার পরে শুরু হয় নতুন প্রতারণা মাসের পর মাস,বছরের পর বছর পার হলেও ফজলু সেখ আর তাদের সাথে যোগাযোগ করে না। অনেক ঘুরাঘুরির পরে যদি কোন ব্যাক্তিকে বিদেশে পাঠান তাদেরকে বৈধ কোনো কাগজপত্র প্রদান করেন না। দু একজনকে টুরিস্ট ভিসা ধরিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী সেসব ব্যক্তিরা বিদেশে গেলেও প্রবাসী আইনি জটিলতার কারণে তাদেরকে দেশে ফেরত আসতে হয়। মালেয়শিয়া নিয়ে গিয়েও কাজ না দিয়ে সেখানে আবার টর্চার সেল এর মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন এই ফজলু শেখ।
ফজলু সেখের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে এমন অনেকেই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ভিটেবাড়ি, গরু, ছাগল বিক্রি করে এনজিও থেকে লোন করে টাকা দিয়েছিল তারা এখন সবাই পথের ফকির। ফজলুর প্রতারণা সম্পর্কে গান্না ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের শিপন মালিতা বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে আমার নিকট থেকে ফজলু দালাল ২ লক্ষ টাকা নেন, এরমধ্যে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দুইবারে তার স্ত্রী ফজিলা খাতুনের ঝিনাইদহ ইসলামী ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে জমা দেয়। বাকি ৫০০০০ টাকা তার পরিচিত ভাগিনার মাধ্যমে কাছে পাঠায়। আমাকে মেডিকেল করার জন্য ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে সে আর যোগাযোগ করে না। আমি অনেক কষ্ট করে এনজিও থেকে লোন তুলে, গরু বিক্রি করে, জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়ে থাকি। এখন বিদেশেও যেতে পারলাম না আবার দেনার দায়ে ঘুরছি। টাকার কথা বললে দালাল আর ফোন ধরে না। এছাড়া হরিশংকরপুর গ্রামের বাধন বিশ্বাস জানান, আমার নিকট থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়েছিল কিন্তু বিদেশে আর পাঠায়নি বহু শালিস বিচার করে অর্ধেক টাকা উদ্ধার করেছিলাম। চন্ডিপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সবুজের মাধ্যমেও ওই গ্রাম থেকে কয়েকজনের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা হাতিয়ে নেন ফজলু সেখ। এছাড়া ফজলু সেখের বড় ছেলে নাসিম শেখ ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে এক সময় বিকাশ, নগদের ব্যবসা করত। সেখানেও গড়ে তুলেছিল মানব পাচারের বিশাল সিন্ডিকেট। তার ছেলে নাসিম শেখ একাধিক মানুষকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে আনুমানিক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে মালয়েশিয়া। মানব পাচারের এসব টাকা দিয়ে ফজলু শেখ মালয়েশিয়ায় গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়। এসব নানা অভিযোগের বিষয়ে ফজলু বিশ্বাসের কাছে অনলাইন whatsapp যোগাযোগ করা হলো সে মোবাইল রিসিভ করেনি। এছাড়া
ফজলু সেখের গ্রামের বাড়ি পরানপুরে তার স্ত্রীর ফজিলা খাতুনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি। পরবর্তীতে তার আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা কোথায় আছে কেউ বলতে পারেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী এক ব্যক্তি জানান, ফজলু ও তার স্ত্রী, ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে এজন্য তারা বাড়িতেও থাকেনা।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মানবপাচারের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিদেশ পাঠানোর নাম করে কাউকে নিঃস্ব করা বড় অপরাধ। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত