আজ - বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - বিকাল ৩:৪৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনার আড়ালে কি চলছে! নতুন কোন ভু-রাজনৈতিক খেলা?

হিপ হিপ হু-র-রে আমেরিকা আসতে চাই রংপুরে। কী- খুব ভালো সংবাদ না?

মনে আছে- গত কিছুদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন অনেকটা নীরবে ব্যাক্তিগত সফরের ছদ্মবেশে রংপুরে ঘুরে গেছেন!

তিনি কোথায় কোথায় গেছেন আবার মনে করিয়ে দেই।
গত ২৯ আগস্ট রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করে লালমনিরহাট সম্ভাব্য তিস্তা প্রকল্পের এলাকা ধরে একবারে গিয়ে হাজির তিস্তা ব্যারেজ এলাকায়। এপাশে তিস্তা ওপাশে গজলডোবা। মাঝখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেখলেন তিস্তার জল ভারত কতটুকু ঘোলা করে।

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় ফটোসেশন সেরে নীলফামারী হয়ে ক্রিস্টেনসেন হাজির একদম স্পর্শকাতর এলাকা
চিকেন নেক খ্যাত তেতুলিয়া জিরো পয়েন্টে। তিনি ওখান থেকে দেখলেন ভারতের সবচেয়ে দূর্বলতম এলাকা ও চীনের দূরত্ব। তারপর ফিরলেন ঠাকুরগাঁয়।

বালিয়াডাঙ্গীর সেই বিখ্যাত সূর্যপুরী আমগাছ দেখে দিনাজপুর, পার্বতীপুর হয়ে ট্রেন যোগে সৈয়দপুর। সৈয়দপুর থেকে বাই এয়ারে সোজা ঢাকা। তারপর ক্রিস্টেনসেনের অতিগুরুত্বপূর্ণ সিক্রেট ফাইল চলে গেছে পেন্টাগন, সিআইএ ও ডিপস্টেটের বড় কর্মকর্তাদের কাটাছেঁড়ার টেবিলে। যেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সর্বনাশের ধরণ মূলত কেমন হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আপাত দৃশ্যত এই নিরামিষ সফরের আড়ালে কি ছিল সেই অতিগুরুত্বপূর্ণ সিক্রেট রিপোর্ট?

আমরা যখন কেবল নজর রাখছি সেন্টমার্টিন ও মহেশখালীতে সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের দিকে তখন ডিপস্টেট ভেতরে ভেতরে খেলছে আরও ভয়ঙ্কর খেলা।
তারা কেবল সেন্টমার্টিন ও মহেশখালীতে আটকে থাকতে চায় না। তাদের এখন নজর পড়েছে সর্ব উত্তরের রংপুর জোনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখানে যেকোনো মূল্যে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায়।

সারা দুনিয়া জানে, আমেরিকার একক আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে চীন। ভারতও আমেরিকার জন্য অতি
গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাংলাদেশে- চীন ও ভারতের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে কমাতে হলে তিস্তা প্রকল্পে তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি মানে ভারত ও চীনের একটা চরম অস্বস্তির ব্যাপার। এই এলাকাটা ভারত ও চীনের খুব সংবেদনশীল এরিয়ায়। ভারতের অতিগুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেক যেমন আছে তেমনি কিছুটা দূরে চীনের অতিগুরুত্বপূর্ণ তিব্বতও আছে। তাই রংপুর জোনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ভারত ও চীনকে বেশ বেকায়দায় ফেলবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে যখন ভারত ও চীনের দড়ি টানাটানি অবস্থা–এই সুযোগে ডিপস্টেট তিস্তা প্রকল্পে
অর্থায়ন করতে চায়। তারা এই প্রকল্প ছদ্মবেশী গোয়েন্দা ও ডিপস্টেটের এদেশীয় পেইড এজেন্টদের সমন্বয়ে বাস্তবায়নের নীলনকশা করছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীর দুইপাশে গড়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী। ডিপস্টেটের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে এখানে গড়ে উঠবে বিশ্ববিখ্যাত নাইটক্লাব, ক্যাসিনো জোন, পানশালা আরও কতো কি!

প্রিয় রংপুরিয়া– খুব খুশি খুশি লাগছে না? লাল নীল কতো রংবেরঙের আলো জ্বলবে আর রংপুর হবে এই পর্যটন নগরীর কেন্দ্রবিন্দু। ভেতরে ভেতরে খুব আনন্দ লাগারই কথা। আমাদের আর থাইল্যান্ড, দোহাই, গোয়া, মালদ্বীপ, সিংগাপুর যেতে হবে না।

আসল কথা হলো– এতো বৃহৎ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নিরাপত্তা প্রশ্ন অত্যন্ত জরুরি। ভাবনার কিছু নেই–
এই প্রকল্পের নিরাপত্তায় সার্বক্ষনিক থাকবেন আমেরিকার অতিগুরুত্বপূর্ণ মেরিন সেনারা। আগে একটু জায়গা দেন তারপর নিরাপত্তার নামে আরও কতো রকমের হাজারো সেনাদের দেখতে পারবেন!

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঘিরে তিস্তার দুইপাশে গড়ে উঠবে
দক্ষিণ এশিয়ার লাস ভেগাস।
অনিন্দ্য আউয়াল
১৬.০৯.২৬

আরো সংবাদ
স্বাস্থ্য
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত