বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ : তসলিমা নাসরিন

একাত্তর ডেস্ক;  শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না নুসরাত জাহান রাফিকে। মা-বাবার আর্তি, সতীর্থসহ সকলের প্রার্থনা আর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পাঁচদিন একটানা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত যৌন নিপীড়নকারী এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে সারাদেশের মানুষ আওয়াজ তুলছেন। এরই প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

নিথর দেহপড়ে আছে নুসরাত জাহান রাফি —৭১নিউজ২৪ডটকম

৭১নিউজ২৪.কম পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘সিরিয়াসলি, বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বাচ্চারা সেকুলার বা সাধারণ স্কুলে যাবে পড়তে। ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে ঘরে বসে জানার চেষ্টা করবে, আফটার অল ধর্ম – বিশ্বাস একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। কথা হচ্ছে, মাদ্রাসাগুলোয় যা ঘটছে প্রতিদিন, তার সামান্য যেটুকু খবর আমরা পাচ্ছি তা ভয়ানক । মাদ্রাসার শিক্ষকেরা বাচ্চাদের ধর্ষণ করছে এবং খুন করছে। বাচ্চাদের সংগে কী আচরণ করতে হয়, এই শিক্ষাটিই এদের নেই। এদের আমি শিক্ষক বলতে চাইনা। এরা শিক্ষক নয়, এরা একএকটা লোলুপ বদমাশ, দুশ্চরিত্র, যৌন হেনস্থাকারী, ধর্ষক, খুনী। এই খুনীদের কাছে যে বাবা মা’রা নিশ্চিন্তে বাচ্চা তুলে দেয়, তাদেরও বলিহারি বুদ্ধি!


নুসরাত নামের মাদ্রাসার মেয়েটি ধর্ষক সিরাজের কবল থেকে বাঁচতে চেয়েছিল, কিন্তু এই সাহসী মেয়েটিকে বাঁচতে দেয়নি ধর্ষক এবং ধর্ষকের পুরুষ- সমর্থকেরা, পুড়িয়ে মেরেছে। কিন্তু ধর্ষকদের সমর্থনে বোরখাওয়ালীরা রাস্তায় নেমেছে কেন, যে বোরখাওয়ালীগুলো ধর্ষণের শিকার ইতিমধ্যে হয়েছে অথবা হবে? এদের মাথার ভেতর ঠিক কী আছে খুলি খুলে দেখতে ইচ্ছে করে।

বাচ্চাদের বাবা মাকে বলছি, স্কুলে পাঠান বাচ্চাদের, মাদ্রাসায় নয়। মাদ্রাসায় বাচ্চাদের জীবন নষ্ট হবে, ভুল জিনিস শিখবে, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতিতা হবে, ধর্ষিতা হবে, অপমানে আত্মহত্যা করবে, খুন হবে। যারা বাচ্চাদের শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছে, তারা ভালো কিছু জানলে তো শেখাবে! সিরাজ একা নয়, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা লোকগুলো সিরাজের মতোই। হবে না কেন, ধর্ম কি মেয়েদের মানুষ ভাবতে শেখায়?

সরকারও তো ধর্ম বেচে খায়। তা না হলে সরকারই মাদ্রাসা বন্ধের ব্যবস্থা করতো।’

Please follow and like us: