যশোরে ছয় আসনে কঠোর নিরাপত্তা বলয়

http://www.71news24.com/2019/03/18/1128

এম.জামান কাকা, যশোর : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে গোটা যশোর। এ লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন জেলার ৬টি সংসদীয় আসনকে ৬টি সেক্টরে ভাগ করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। এ কাজে থাকছে ১৩৪ টি মোবাইল টিম ও ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জ, সাব ইন্সেপেক্টরসহ ২২৯৭ জন পুলিশ ও ৯,৫৮৮ জন আনসার সদস্য নির্বাচনের দিন নিরাপত্তায় কাজ করবেন।
যশোর পুলিশ অফিস সূত্রে জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করার লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন জেলাব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে তারা প্রতিদিনই নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। যাতে কোনভাবেই নির্বাচনের দিন পরিবেশ বিঘিœত না হয়। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তারা যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনকে ৬টি ভাগে বিভক্ত করে কাজ শুরু করেছে। সেক্টরগুলো হচ্ছে, শার্শা ও বেনাপোলকে নিয়ে ১ নম্বর সেক্টর, ঝিকরগাছা ও চৌগাছাকে নিয়ে ২ নম্বর সেক্টর, গোটা সদর উপজেলাকে নিয়ে ৩ নম্বর সেক্টর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরকে নিয়ে ৪ নম্বর সেক্টর, মণিরামপুর গোটা উপজেলা নিয়ে ৫ নম্বর সেক্টর এবং কেশবপুর উপজেলা নিয়ে ৬ নম্বর সেক্টর। এসব সেক্টর প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপাররা। তাদের সাথে থাকবেন সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ফাঁড়ির ইনচার্জরা। এছাড়া, উপজেলা এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকবে ১টি করে মোবাইল টিম ও পৌর এলাকায় থাকবে ৩টি মোবাইল টিম। এ হিসেবে জেলার গোটা নির্বাচনী এলাকায় ১৩৪টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। একইসাথে থাকছে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স। এসব স্ট্রাইকিং ফোর্সের নেতৃত্বে থাকবেন ইন্সেপেক্টররা। একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের সমন্বয়ে ৬টি নির্বাচনী এলাকায় ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা এলাকায় ১টি করে ও সদর উপজেলা এলাকায় ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে। এছাড়া যশোর পুলিশ লাইনে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত ২০ জন ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে। তারা জরুরী প্রয়োজনে সংশ্লিস্ট এলাকার মাঠে নামবেন। এ হিসেবে গোটা যশোর জেলার ৬টি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করবেন কর্মকর্তাসহ ২২শ’ ৯৭ জন পুলিশ সদস্য ও ৯ হাজার ৫৮৮ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য। আর পুলিশ বাহিনীর এসব টিমের নেতৃত্বে থাকবেন পুলিশ সুপার মঈনুল হক। এসব টিমের বাইরেও তিনি জরুরী প্রয়োজনে কৌশলে নতুন নতুন টিম গঠন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে। আর পুলিশ বাহিনীর এসব নিরাপত্তা টিমের বাইরে যশোর জেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে ১৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও ২৪ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নেমেছেন সেনা সদস্যরা। একইসাথে কাজ করবে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। এছাড়া যশোরে নির্বাচনী আচারণ বিধি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে পৃথক কয়েকটি টিম। এ কারণে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যশোরসহ ৮টি উপজেলা এলাকা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যদের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। যশোর পুলিশ বিভাগের নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দীন বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক বলয় তৈরি করেছে। আর এ কাজে তারা সর্বোচ্চ ফোর্স নিয়োগ করেছে। যশোর পুলিশের কোন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বের বাইরে থাকছে না। তাদের লক্ষ্য একটাই, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপরও যদি এ কাজে কোন ব্যতয় ঘটে বা কেউ শান্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তবে পুলিশ প্রশাসন কাউকে ছাড় দেবে না। তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।্

Please follow and like us: