
শৈলকুপায় ১২ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অভিযোগ!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাক সরলীকরণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন শেখপাড়া-লাঙ্গলবাঁধ সড়কের বাক সরলীকরণ প্রকল্পে পাঠানপাড়া, পাইকপাড়া, কুশবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফাজিলপুর মহিলা কলেজ সংলগ্ন একটি পতিত জায়গায় সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ইট ও ইটের খোয়া। সড়ক বিভাগের প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী বেড ও এজিং তৈরিতে প্রথম শ্রেণির ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা রয়েছে বলে তারা জনতেন। তবে বাস্তবে সেখানে ‘TOP10’ নামের নিম্নমানের, ২ থেকে ৩ নম্বর নিন্মমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে কাজের স্থায়িত্ব ও সড়কের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাবশালী হওয়ায় কিংবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সংশ্লিষ্টদের তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাচাই করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এদিকে ‘মেসার্স মইনুদ্দিন বাশী’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেয়েছে বলে জানান ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন।
তিনি জানান, জমি অধিগ্রহন ছাড়াও একাজে বরাদ্ধ রয়েছে ১২ কোটি টাকা। আগামী জুন মাসের আগেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ প্রকল্পের কাজে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। সকল নির্মান সামগ্রী ল্যাব টেস্ট করা হবে।
অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।